বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না, কারিগরি ব্যবস্থাপনায় কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।


তিনি বলেন, “আমরা ড. ইউনূস সাহেবকে সবাই সম্মান করি। তিনি একজন গুণীজন। তার নেতৃত্বে যে সরকার তিনি সমর্থন করেছেন, বিএনপি সহ সব আন্দোলনরত দল তা সমর্থন করেছে। তবে তার গঠিত বিভিন্ন কমিশনের মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণামূলক কাজ হবে, এটা মানুষ আশা করে না।”


রিজভী আরও বলেন, দেশ একটি ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে যাচ্ছে। একটি সময় ছিল, ফ্যাসিবাদী আমল, গুম-খুন, বিরোধী দলের কণ্ঠকে স্তব্ধ করার আমল। মানুষ ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশে জীবন যাপন করত। কিন্তু ১৬ বছর ধরে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্ত কণ্ঠের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।


তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলা বাড়িয়া গ্রামের জন্মান্ধ গফুর মল্লিকের (৭৯) বাড়িতে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ কার্যক্রমের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান শেষে এসব মন্তব্য করেন।


রিজভী বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ স্বাক্ষর করা হয়েছিল, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে, বিএনপির স্বাক্ষরিত পাতা সনদে নেই, অন্য পাতা যুক্ত হয়েছে। এটা দুঃখজনক এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।


তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কে অসুস্থ এবং বন্দি করা হয়েছে, চিকিৎসা বন্ধ করা হয়েছে, কিন্তু ভার্চুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। এতে বিজয়ের পথ সুগম হয়েছে। রিজভী উল্লেখ করেন, “৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ সময়ের পর জনগণ কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করছে।”


রিজভী বলেন, জুলাই সনদে ৪৭–৪৮টি ধারা রয়েছে, কিছু ধারা আইনি করতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। এককক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টকে দ্বিকক্ষ করতে সংবিধান সংশোধন দরকার। তিনি বলেন, “নতুন সংবিধান করতে হলে জনগণের তাগিদ ও স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে তা হওয়া উচিত। ২৭০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে পাস না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাস হবে—এ ধরনের এককেন্দ্রিক, একদলীয় ব্যবস্থা পৃথিবীতে নেই।”


তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, সংবিধান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন চালায়, সংবাদপত্র ও দল নিষিদ্ধ করেছে। তবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। সংবিধানে আল্লাহর নামও যুক্ত করেছিলেন, যা বর্তমান সরকার মুছে দিয়েছে।


রিজভী শিক্ষাব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এইচএসসির ফলাফলে মেধার প্রতিফলন হয়েছে, তবে কিছু মেধাবী ছাত্রছাত্রী আড়াই শতাংশেরও বেশি হারিয়েছে। খাতার পর্যাপ্ত মূল্যায়ন না হওয়ায় এটি হয়েছে, যা একটি অপরাধ।”


এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলম, রাজবাড়ী-১ আসনের ধানের শীষ মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়া, রাজবাড়ী-২ আসনের ধানের শীষ মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশীদ, রাজবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. এ. খালেদ পাভেল সহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।